ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভসহ অন্যান্য অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের মস্কো-অধিকৃত শহর হরলিভকায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রোববার (২৬ জুলাই) এই পালটাপালটি হামলাগুলো চালানো হয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রোববার রাতে ইউক্রেনের ওপর সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩৬টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলাগুলো কিয়েভ, চেরনিহিভ, জাপোরিঝিয়া এবং খারকিভ শহরের ওপর চালানো হয়েছে।
উত্তর চেরনিহিভে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি রুশ ড্রোন একটি সুপারমার্কেটে আঘাত হানলে নয় বছর বয়সী এক বালিকাসহ দুজন নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘একটি সাধারণ সুপারমার্কেটের ওপর অত্যন্ত নির্মম ড্রোন হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে দিনের বেলায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় মেয়র জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি রাশিয়ার পরিকল্পিত সন্ত্রাস, যার কোনো সামরিক যৌক্তিকতা নেই।’
ইউক্রেনের আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়ায় একটি গ্লাইড বোমা হামলায় একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শহরটি তীব্র বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে।
কিয়েভে মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কেন্দ্রীয় একটি এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন লেগেছে। রাজধানীতে তিনজন আহত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবারে প্রকাশিত ছবিতে জ্বলন্ত যানবাহন দেখা গেছে।
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক ছিল রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। দেশটির জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজ জানিয়েছে যে, পূর্ববর্তী এক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সাহায্য করার সময় রাশিয়ার এক হামলায় তাদের দুজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশ-অধিকৃত শহর হরলিভকায়, রাশিয়ার নিযুক্ত মেয়র ইভান প্রিহোদকো বলেছেন, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রিহোদকো পরে আরও বলেন, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি জরুরি যানবাহনে আঘাত হানলে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং আরেকজন বাসিন্দা আহত হন।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত রুশ শহর বেলগোরোদে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
আজভ সাগরের তীরে অবস্থিত একটি রুশ-অধিকৃত শহরে ইউক্রেনীয় হামলায় ১২ জন নিহত হওয়ার একদিন পর এই হামলাগুলো ঘটল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী দেশে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা মস্কো এবং কিয়েভ উভয়ই অস্বীকার করে। কিন্তু জাতিসংঘের মতে, ২০২৬ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় দেশেই বেসামরিক হতাহতের হার তীব্রভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশেই স্বল্প-পাল্লার ড্রোন ও গ্লাইড বোমার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং অবকাঠামোর ওপর তীব্রতর হামলার কারণেই এমনটা হচ্ছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনে ১,৩৯৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭,৯৭৮ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ায় ২৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১,৫৯৬ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনা বর্তমানে থমকে গেছে। ক্রেমলিন পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে এবং বারবার বলেছে যে তারা পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশও বল প্রয়োগ করে দখল করতে চায়।