টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে তেলের দাম।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে।
টানা তিন সপ্তাহ মূল্যবৃদ্ধির পর উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে সংঘাতের জেরে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রও জানান, তেহরান আপাতত প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত রেখেছে।
তবে হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।