গাজায় নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সম্বলিত একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এই সমঝোতা করেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণে বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে। গাজা আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।’
অন্যদিকে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) হামাস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এতে তাদের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হামাস কর্মকর্তারা এএফপিকে বলেছেন, গাজা পরিচালনার জন্য ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস যে কমিটি তৈরি করেছে, তারাই হামাসের অস্ত্র সংরক্ষণের বিষয়টি দেখাশোনা করবে।
গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারসহ চুক্তির শর্তাবলি পালনে মধ্যস্থতাকারী এবং বোর্ড অব পিস কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে হামাস।
হামাসের প্রতিনিধি গাজী হামাদ জানান, গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করতেই এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো নাক গলাবে না। ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা কাজটি সম্পন্ন করবে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল–জাজিরাকে বলেছেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প বলেছেন, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের এই প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এ যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।
অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হন।
বোর্ড অব পিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে নিশ্চিত করেছে, হামাস গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।