ঢাকা: ছুটিতে দেশে আসার পর আকস্মিকভাবে ভিসা বাতিল হওয়ায় আটকা পড়া প্রবাসীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
আটকা পড়া এই প্রবাসীদের একটি তালিকা আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে বুধবার (৫আগস্ট) আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে।
দূতাবাস বলছে, ভিসা বাতিলের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের ইমেইলের ভিত্তিতে একটি ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়। সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অগাস্ট পর্যন্ত ৯৮৫ জন বাংলাদেশির তথ্য কূটনৈতিক নোট (নোট ভার্বাল) আকারে আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নোটে ভিসা বাতিলের কারণ, পুনরায় ভিসা সক্রিয় করার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্তদের আমিরাতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক হিসাব বা অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা কীভাবে দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানিয়েছে, ইমেইলে পাওয়া প্রায় আড়াই হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই করে এখন পর্যন্ত ৯৮৫ জনের তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন আবেদনও যাচাই করে পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।
এর আগে ১ আগস্ট দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে ভিসা বাতিলের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য দূতাবাসের সরকারি ইমেইলে পাঠানোর আহ্বান জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সূত্রে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল হওয়ার তথ্য দূতাবাসের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।
তবে দূতাবাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ডেটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ভিসা পুনর্বহালের নিশ্চয়তা নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভিসা পুনরায় সক্রিয় করার একমাত্র ক্ষমতা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের। বাংলাদেশ দূতাবাস কেবল ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে আমিরাত সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছে।
এদিকে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় দেশে ছুটিতে থাকা অনেক বাংলাদেশির মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশে আসা অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই আমিরাতে ফেরার চেষ্টা করছেন। তাদের কেউ কেউ কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় বিমান টিকেট কিনেছেন কিংবা অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে টিকেট পরিবর্তন করেছেন।
কেন বাতিল হচ্ছে ভিসা?
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
তবে বিভিন্ন কারণে ভিসা বাতিল হয়ে থাকতে পারে। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কোটার বেশি কর্মী নিয়োগ;
- কর্মীর ভিসার পেশা ও বাস্তব কাজের মধ্যে অমিল;
- ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেমের শর্ত লঙ্ঘন;
- প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা;
- বিনিয়োগকারী ভিসা নিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা;
- সনদ জালিয়াতি;
- সামাজিক মাধ্যমে আমিরাতের আইন বা নীতির পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা;
- বিভিন্ন অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ দেশে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফেইস রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তাই আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তার ভাষ্য, বাংলাদেশিদের তুলনায় পাকিস্তানের নাগরিকরা এ ধরনের সমস্যায় আরও বেশি পড়েছেন। ‘আমরা কূটনৈতিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’