মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ‘সংঘাতক’কোনো ‘যুদ্ধ’ নয়। তবে এ ‘সংঘাত’ কবে শেষ হবে তাও জানাতে রাজি নন তিনি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন জেডি ভ্যান্স।
তবে সপ্তম মাসে গড়ানো এই সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তা তার বক্তব্য থেকে বোঝ গেছে।
প্রেস কনফারেন্সে জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সময়সীমা বা গ্যাসের দাম যুদ্ধের আগের দামে ফেরত যাওয়ার কোনো তারিখ জানাতে পারেননি। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ছয় মাস আগে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় শুরু হওয়া এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর দায়িত্ব ইরানেরই।
ভ্যান্স যুক্তি দেখিয়েছেন, বর্তমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলাই উচিত নয়, কারণ ‘সক্রিয় যুদ্ধ অভিযান’ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এটাকে “যুদ্ধ” বলব না। এখন কোনো গোলাগুলি চলছে না। আমি স্বীকার করছি, কিছু জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।’
যদিও এ সপ্তাহে আবারও ‘সংঘাত’ হয়েছে। ভ্যান্স জানান, তেহরান যাতে বাণিজ্যিক তেল পরিবহনে আর বাধা দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।
ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি চলছে না।’ যদিও এই সপ্তাহে টানা তিন দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোলাগুলি বিনিময় হয়েছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির আশেপাশের এলাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময়সীমা নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ হলেই এর অবসান ঘটবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে? বাস্তবতা হলো, এর উত্তর আমি জানি না।’ তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখলে কোনো আলোচনা হবে না বলেও জানান জেডি ভ্যান্স।
ভ্যান্সের মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে একটি বিক্ষিপ্ত, স্বল্প মাত্রার যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করাটা এই ইঙ্গিত দেয় যে, গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে প্রশাসন যুদ্ধটিকে পেছনে ফেলে আসার চেষ্টা করছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী সক্রিয়ভাবে ইরানি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রেখেছে।
বৃহস্পতিবার পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত হতাহতের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ৭৯০ জন মার্কিন সেনা আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন।