ঢাকা: আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতেই প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে অত্যাচার ও অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কংসের কারাগারে তাঁর জন্ম হয়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উৎসব উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকগুলোও প্রকাশ করছে বিশেষ নিবন্ধ ও আয়োজন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় আলোচনা সভা।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হবে, যা ঢাকেশ্বরী মন্দিরসংলগ্ন পলাশীর মোড় থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে শ্রীকৃষ্ণ পূজা।
উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। পরে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রমে জন্মাষ্টমী মহোৎসবের আয়োজন করেছে। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।
এ ছাড়া রমনা কালীমন্দির, মা আনন্দময়ী আশ্রম, রাজারবাগ বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, স্বামী ভোলানন্দ গিরি আশ্রম, প্রভু জগদ্বন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, ঠাঁটারীবাজার শিবমন্দির, রাধামাধব জিও দেব বিগ্রহ মন্দির, রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দিরসহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন মন্দির এবং ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগেও বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পৃথক শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারাও। তাঁরা শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।