Sunday 12 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্যাপ বাস্তবায়নের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

‎‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জুলাই ২০২৬ ২৩:১৮

লিগ্যাল নোটিশ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল জনস্বার্থে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানের কাছে এ নোটিশ পাঠান।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে বলা হয়, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার ড্যাপ প্রণয়ন করলেও গেজেট প্রকাশের দীর্ঘ সময় পরও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ এবং জোনিং আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় নগর ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল বলেন, ড্যাপ বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি ও সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রণীত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে শুধু ড্যাপ বাস্তবায়নই নয়, অনেক আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পও দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ঢাকার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়, এমনকি জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তার মতে, ড্যাপ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শুধু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নয়, পুরো ঢাকার জন্য সমন্বিত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায়ও ড্যাপের সুপারিশগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল বলেন, জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প কোনো নির্দিষ্ট সরকারের নয়, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট ড্যাপ (২০২২–২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি আবাসন উন্নয়ন, ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), ভবনের উচ্চতা এবং সড়কের প্রশস্ততাসহ বিভিন্ন বিধানে পরিবর্তন আনা হয়। সম্প্রতি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবও ড্যাপের কয়েকটি বিধান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর