ঢাকা: অর্থপাচারের মামলায় গ্রেফতার গাইবান্ধার আলোচিত রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, রিমান্ড শেষে হরিদাসকে আদালতে হাজির করে সিআইডি। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হরিদাসের ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার হিসাবে কারা এবং কী কারণে অর্থ জমা দিয়েছেন, সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্য মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিআইডি আরও জানায়, আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্ত এখনো চলমান। এ অবস্থায় তাকে জামিন দিলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। একই দিন গভীর রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ হরিদাসকে গ্রেফতার করে।
পরদিন ১৩ জুলাই আদালত তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে তার নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি তার হিসাবে ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস-সহ অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করত। এ চক্র ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জন এবং তা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, অবস্থান ও মালিকানা গোপনের চেষ্টা করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।