ঢাকা: জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ জেরার মুখোমুখি হচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের কর্মী তাজুল ইসলাম সুমন।
বুধবার (২২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
তাজুল ইসলাম সুমনের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলায়। তিনি এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
প্রথমে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জেরা করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী ও স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবীরা প্রশ্ন করবেন।
এর আগে গত ১৮ জুন মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন তাজুল ইসলাম সুমন। জবানবন্দিতে তিনি গুম, নির্যাতন এবং দীর্ঘ আট বছর কারাবন্দি থাকার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি দাবি করেন, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ গুম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু একটি প্রশ্নের মাধ্যমে জেরা শুরু করলেও সময়ের স্বল্পতার কারণে আদালত আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
অন্য ১০ জন আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হকও এ মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।