ঢাকা: ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা (৪৪) নামে এক নারী এ আবেদন করেন।
সকাল ১১টার দিকে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত নথি পর্যালোচনা করে আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে দুপুরে বিচারক মামলার আবেদনটি খারিজ করে দেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়াও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন, এনসিপি নেতা সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারওয়ার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত (সুরভী), মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট প্রথম নয়জন আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ, উসকানি এবং সহযোগিতায় অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা তিন থেকে পাঁচ হাজার ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা চালান।
বাদীর দাবি, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ঐতিহাসিক নিদর্শন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নথি, দলিল, প্রামাণ্যচিত্র, বই-পুস্তকসহ মূল্যবান সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কিছু সম্পদ লুট করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে দুটি বুলডোজার, একটি এক্সকাভেটর ও হ্যামারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাতভর ভবনটি ভাঙা হয়। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ভবনটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টেরও উল্লেখ করা হয়। সেখানে ‘আজ রাত বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে’—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলা হয়, ওই পোস্টের পর মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ হামলা চালানো হয় এবং অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভবনটি ধ্বংস করা হয়।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তবে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আদালত মামলার আবেদনটি খারিজ করে দেন।