Tuesday 01 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রানা প্লাজা ধস / নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ মামলার রায় স্থগিত, যুক্তিতর্ক ৬ অক্টোবর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫১

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়লে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।ফাইল ছবি

ঢাকা: সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় নির্ধারিত রায় ঘোষণা স্থগিত করে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল।

তবে বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে রায় ঘোষণার তালিকা থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে অধিকতর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ৬ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে নয়, বরং বিচারক নিজ উদ্যোগেই মামলাটি রায়ের তালিকা থেকে তুলে নিয়ে পুনরায় যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় ভবনের মালিক সোহেল রানা ছাড়াও আসামি রয়েছেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অপরদিকে, মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম বিচার শুরুর পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যাওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এস. এম. মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় শুরুতে তাকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে ভবনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় পরে অভিযোগপত্রে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৬ সালে রানা প্লাজার সাততলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০০৮ সালে ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়। এছাড়া শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদন পেলেও পরবর্তীতে ভবনটিতে পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম হিসেবে উঠে আসে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০১৭ সালের ২১ মে আদালত ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন এবং আটজনকে অব্যাহতি দেন। মামলায় তালিকাভুক্ত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

সারাবাংলা/টিএম/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর