Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩০

জজ কোর্ট, ফরিদপুর।

ফরিদপুর: ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়া প্রেমের বাধা দুর করতে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী মুন্নি বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক মাহবুব মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ-এর বিশেষ পারিবারিক আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় নারী আসামি উপস্থিত থাকলেও অপরজন পলাতক ছিলেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) জেলার সালথা উপজেলার পুরুরা গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী ও আসামি মাহবুব মোল্লা একই গ্রামের মো. কাশেম মোল্লার ছেলে।

বিজ্ঞাপন

নিহত নুরুল ইসলাম একই এলাকার আব্দুল মান্নান মোল্লার সেজো ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি মুন্নি বেগম সালথা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের চতুর্থ স্ত্রী। পাঁচ বছর বয়সি এক ছেলে ও এক বছর বয়সি এক মেয়ের মা মুন্নি বেগম পাশের বাড়ির চাচাতো দেবরের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। স্বামীকে হত্যার এক বছর আগে তারা দু’জনে একবার পালিয়ে যায়। পরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে স্ত্রী ফিরে এলে মেনে নেয় তার স্বামী।

২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে হরলিক্সের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে দিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে একই ঘরে ঘুমাতে যান মুন্নি। অর্ধেক রাতে ঘরের দরজা খোলা দেখে স্ত্রী মুন্নি স্বামীকে ঘরে না পেয়ে বাইরে খুঁজতে গিয়ে ঘরের পেছনে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে স্বজনরা এগিয়ে আসে। ‍নুরুল ইসলামের মাথার একাধিক স্থানে কোপানোর চিহ্ন পাওয়া যায়। পরদিন সকালে এই ঘটনায় নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমিকের যুগল রঙিন ছবি উদ্ধারের সূত্র ধরে পুলিশ মুন্নিকে আটক করে। মুন্নির স্বীকারোক্তির মাধ্যমে জানা যায়, তাদের পরকীয়া প্রেমের বাধা সরাতে মাহবুবের পরামর্শ অনুযায়ী দু’জনে মিলে ওইদিন রাতে তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে।

জেলা ও দায়রা জজের বিশেষ পারিবারিক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান বিকু জানান, পুলিশি তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হত্যাকারী স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিককে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক ওই দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এ ছাড়াও, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে পুলিশ পাহারায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর