ঢাকা: কুমিল্লা সেনানিবাসে তনু হত্যা মামলার তদন্তে চাপ কমাতেই অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, মামলার এজাহারে হাফিজুরের নাম নেই। এমনকি ৩ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিএনএ পরীক্ষাতেও তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন হাফিজুরের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন। এ সময় হাফিজুরের স্ত্রী রওশন আরা লিপি ও তাঁর তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী বলেন, ২০১৬ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ তনুর সঙ্গে হাফিজুরের ফোনে যোগাযোগের বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল তাকে বাসা থেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২৪ জুন আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তনুর মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে হাফিজুরের ডিএনএর কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুরকে জামিন দেন। পরে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগ তার জামিন স্থগিত করেন। এর পরদিন ৭ আগস্ট তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাফিজুর রহমান ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে যোগ দেন। প্রায় ৩২ বছর চাকরি করার পর ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী বলেন, ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ স্ট্যাটিক সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হাফিজুর। এ কারণে ১৩ মার্চ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তনুর সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ হয়। ১৮ মার্চ আবার যোগাযোগ করা হলে তনু তাকে জানান, তিনি নাট্যদলের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে রয়েছেন এবং অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না।
এর দুই দিন পর, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের আলিপুর এলাকার পাওয়ার হাউসের কাছে জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই রাতে হাফিজুর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনেই ছিলেন। হাফিজুরের পরিবারের দাবি, তনু হত্যার পর বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জামিন স্থগিত হওয়ার পরও তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি; বরং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন।
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, হাফিজুরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে তাকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, তনু হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের ধারণা, এরপর তদন্তের চাপ কমাতে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
তনু হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রহস্যের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধানের প্রত্যাশা জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান হাফিজুরের আইনজীবী। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশেরও অনুরোধ করেন তিনি।