ঢাকা: জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)’।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বক্তব্য দেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব কর্মসূচি করছে তা জানি না। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি ওত পেতে থাকে।’
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচলাবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণে সক্ষম হয়েছে। সংকট এত গভীর ছিল যে রাতারাতি কোনো জাদুকরী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে অপরিহার্য এসব খাতে দেশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতদিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া শুধু দুর্নীতি নয়, জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণাও ছিল।’
বর্তমান সরকার সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিকল্প উৎস সন্ধান ও নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ চলছে।’
সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘কেবল সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি কার্যকর রাখা যায় না। কৃত্রিম ও ভাসাভাসা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
গোলটেবিল বৈঠকের এই নাগরিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা ও গবেষণা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে সহায়ক হবে।’