Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলেনি, ভোটের আগেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: ডিজি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২০ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৮

ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) বলেছেন, সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের যে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীরা তুলেছেন, তার কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ পায়নি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। ফলে এ পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এখন পুরোদমে ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে। শিগগিরই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: সাঁড়াশি অভিযানে সারাদেশে প্রতারক চক্রের শতাধিক গ্রেফতার

তিনি বলেন, অভিযোগ দিতে হলে প্রমাণ সাপেক্ষে ডকুমেন্টসও দিতে হয়। একদল পরীক্ষার্থী অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছে তবে তাদের হাতে কোনো প্রমাণ নেই। কোনো প্রমাণ দিতেও পারছে না। সারাদেশের ডিসি, এসবি ও জেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিলেছে তার সাথে পরীক্ষায় পাওয়া প্রশ্নপত্রের কোনো মিল নেই। দুই একটি প্রশ্ন মিলেছে। তবে এমনিতেই কেউ ১০০ প্রশ্ন পড়লে সেখান থেকে কমন আসবেই। কারন সিলেবাসের বাইরে তো আর প্রশ্ন প্রণনয়ন করা হয় না। আর ডিভাইস নিয়ে যারা পরীক্ষা দিতে চেয়েছিল তারা পুলিশর হাতে ধরা পড়েছে। তাই আপাতত পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিকেই এগুচ্ছে অধিদফতর।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন পৌনে ১১ লাখ চাকরিপ্রার্থী। এ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির ঘটনায় ২০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন একদল চাকরিপ্রত্যাশী। রোববার (১১ জানুয়ারি) তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ তদন্ত করার আশ্বাস দেন অধিদফতরের ডিজি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: রংপুরে ডিভাইসসহ প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ২ সদস্য আটক

ফল প্রকাশ কবে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা ১৮ জানুয়ারিকে সামনে রেখে ফল প্রস্তুতে কাজ করছেন। সেদিনই ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি।

অধিদফতরের ডিজি আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। খুব শিগগির ফল প্রকাশ করা হবে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে আমরা ফল প্রকাশের চেষ্টা করছি। আশা করি এ সপ্তাহে কাজ শেষ করে আগামী সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’

ভাইভায় ডাক পাবেন কত প্রার্থী

লিখিত পরীক্ষার পর থেকে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ কতজনকে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ডাকা হবে, তা নিয়ে। এ বিষয়ে অধিদফতরের সিদ্ধান্ত হলো—জেলাভিত্তিক যেখানে যত শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে, তার তিনগুণ প্রার্থীকে ভাইভায় ডাকা হবে।

আরও পড়ুন: ‘প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করা হবে, প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল’

অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, যদি কোনো জেলায় ৬০টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকে, তাহলে সেখানে ১৮০ জন প্রার্থীকে ডাকা হবে। ওই জেলার প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে তালিকায় প্রথম দিকে থাকা ১৮০ জনকে ভাইভার সুযোগ দেওয়া হবে। কোটার প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

ভোটের আগেই চুড়ান্ত রেজাল্ট

অধিদফতর বলছে, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস পর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হতে পারে। স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভাইভা হওয়ায় এক থেকে তিন কর্মদিবসে ভাইভা শেষ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে (সম্ভাব্য ৭ ফেব্রুয়ারি) অর্থাৎ, নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর