Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণের ২৭টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ জুন ২০২৬ ১৫:১৬ | আপডেট: ৪ জুন ২০২৬ ২০:১৩

বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ

ঢাকা: দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ২৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নগরভবন অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধকল্পে বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ ফলাফল প্রকাশ করেন ডিএসসিসি এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন। তিনি জানান, গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। প্রতি ওয়ার্ডের ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৩৮ বাড়িতে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপে ২৭টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ। ডেঙ্গু সিজনে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং বেশি খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এর ফলে ডেঙ্গুতে মৃত্যু অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই ১২ দিনব্যাপী জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন। ডাটা সংগ্রহের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ‘কবো টুলবক’ ব্যবহৃত হয়। জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কন্টেইনার ইনডেক্স এবং পিউপা ইনডেক্স এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্দিষ্ট সূচকের চেয়ে বেশি, যা ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অনুযায়ী ২৭টি ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুর জন্ম হয়। ব্যক্তিগত বাড়িতেই ডেঙ্গুর লার্ভা বেশি পাওয়া গেছে। একদিনের বেশি পানি জমা রাখা যাবে না। বাড়ির ভেতরে নিজেরাই ডেঙ্গুর খাবার তৈরি করে রেখে পরে সিটি করপোরেশনকে দোষ দিলে হবে না। নিজেদের বাড়ি নিজেরা পরিষ্কার না রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও জানান, পরিদর্শনকৃত ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বহুতল ভবনে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়।

প্রশাসক বলেন, ‘জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৬ জুন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর হতে পর্যায়ক্রমে বাকি অঞ্চল গুলোতেও এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আগামী ৭ জুন থেকে ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী সপ্তাহে বাকি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে।’

এদিকে জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে প্লাস্টিকে ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মেঝেতে জমানো পানি ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং বালতিতে জমানো পানিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ চিহ্নিত হয়েছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর