Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘পিলারের কাছ থেকে মাটি অপসারণে পদ্মা সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুন ২০২৬ ১৬:৩৭ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২০:১৫

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফাইল ছবি

ঢাকা: পদ্মা সেতুর পিলারের কাছ থেকে মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহণ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘যে মাটি সরানো হচ্ছে, তা সেতুর মূল কাঠামোর অংশে নয়, বরং নির্মাণকাজের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরই তা অপসারণ করার কথা ছিল, কিন্তু সময়মতো তা করা হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও খোঁজ নিয়েছি। সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং সেতু প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই। বরং ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পানি চলাচলের সুবিধার জন্য তা অপসারণ করা প্রয়োজন।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভারী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট বা রাস্তা তৈরি করতে হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময়ও নদীর দুই তীরের কিছু এলাকায় এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেতুর মূল অংশের পিলার ও স্প্যান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সেখানে নেওয়া হতো এবং কাজ পরিচালনা করা হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ওই ভরাট মাটি অপসারণের বিষয়টি ঠিকাদারের চুক্তির মধ্যেই ছিল। এ জন্য বরাদ্দও ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সময়মতো তা অপসারণ করেননি। ফলে কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকা মাটি শক্ত হয়ে গেছে, ঘাস জন্মেছে এবং অনেকের কাছে সেটি স্বাভাবিক ভূমির মতো মনে হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন যখন ওই মাটি সরানো হচ্ছে, তখন অনেকের মনে হচ্ছে পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। সেতুর পাইল বা মূল কাঠামোর সঙ্গে ওই ভরাট মাটির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ছিল সাময়িক নির্মাণ সহায়ক অবকাঠামোর অংশ।’

রবিউল আলম আরও বলেন, ‘শুরুতেই মাটি সরিয়ে ফেললে আজ এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতো না। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় এখন অনেকের মনে হচ্ছে এটি সেতুর অংশ। কেউ কেউ মনে করছেন মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরানো হচ্ছে। বাস্তবে এটি প্রকল্পের কাজেরই অংশ, যা অনেক দেরিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর