Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জনগণের সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ সরকার ও বিরোধীদল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৯ | আপডেট: ১ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪৩

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান

ঢাকা-১৫ আসনের জনগণের পানি-গ্যাস সমস্যা, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ খাল দখলমুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ জনগণের সেবামূলক কার্যক্রমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে একমত হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা-১৫ আসনের ৪টি স্থানে পৃথক মতবিনিময় সভায় জনগণের কাছে তারা এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সকাল ৯টার দিকে পশ্চিম শেওড়াপাড়া ৩নং গলিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শুরু করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরে পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ এলাকা, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় ৪নং ওয়ার্ড এলাকা ও ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ডেঙ্গু মশা পরিস্থিতি, পশ্চিম শেওড়াপাড়া খালের পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, গ্যাস ও পানির সমস্যাসহ বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত স্থানীয় জনগণের অভাব অভিযোগ শোনেন এবং সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। এরই আলোকে আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি এবং জনগণের সহায়তায় আমরা সকল সমস্যার সমাধান করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘এলাকায় তীব্র পানির সংকট রয়েছে, গ্যাসের সমস্যা ও কিশোর গ্যাং এর সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তবে এই সমস্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না। এই সমস্যা সমাধানে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে জনগণের সহায়তায় সমাধান করা হবে। জনগণ যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে কোনদিনও এই সমস্যা সমাধান করা যাবে না।’ এলাকার সকল সমস্যা সমাধানে এলাকার জনগণকে সহায়তাসহ এলাকার প্রতিটি জনগণকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা।

তিনি এরকম একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও জনকল্যাণমুখী মতবিনিময় সভা আয়োজন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে এলাকার জনগণকে নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার মতবিনিময় সভার জন্য এসেছি। তিনি এই এলাকার এমপি এবং ডিএনসিসি প্রশাসক এলাকার জনগণের সেবক। আমরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পুরো টিমকে নিয়ে এসেছি জনগণের অভাব, অভিযোগ ও দুর্ভোগের কথা শুনতে। ডিএনসিসি এখানকার জনগণের কথা শুনবেন এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ঢাকা ১৫ আসনের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হব এবং জনগণকে সাথে নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলবো। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের জনগণের জন্য সকল উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি, সকল উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান আছে এবং অব্যাহত থাকবে।’ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-১৫ আসনের জনগণকে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান।

মত বিনিময় সভায় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ডিএনসিসি জনগণের সেবায় নিয়োজিত। ডিএনসিসি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্লিন ঢাকা গ্রীন ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। ডিএনসিসি প্রতিদিন বাসা বাড়ির বর্জ্য অপসারণ, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম, খাল পুনরুদ্ধার করে খাল সংস্কার, ড্রেন সংস্কার, রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান ও বৃক্ষরোপণ অভিযানসহ সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসন আমার এলাকা এবং বিরোধীদলীয় নেতার এলাকা। এই এলাকার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলেমিশে এলাকার জনগণের উন্নয়নে যা কিছু ভালো তাই করে যাব এবং দেশের উন্নয়নে একত্রে কাজ করব।’

তিনি ঢাকা-১৫ আসনের জনগণকে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পানি সমস্যা, গ্যাস সমস্যা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ও ক্লিন ঢাকা গ্রীন দেখা গড়ে তুলতে ডিএনসিসিকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভায় তারা প্রত্যেকে নিজস্ব তহবিল হতে প্রতিটি পানির পাম্পের জন্য ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে এ বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

সভায় ওয়াসার এমডি, তিতাসের এমডি, ডিএনসিসির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ডিএনসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর