ঢাকা: কাউকে পিছিয়ে না রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী ও শিশু বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে পরিবর্তনের পক্ষে প্রচারণা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাজ ফারহানা।
মন্ত্রী বলেন, “সমাজে নারীর অন্তর্ভুক্তি আরও জোরদার করতে সরাসরি নারীদের নামে ‘পরিবার কার্ড’ (ফ্যামিলি কার্ড) ইস্যু করছে সরকার।”
নারীর অগ্রযাত্রায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে অবৈতনিক নারী শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেছিলেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নারীরা যাতে কর্মক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিবেচনায় বেগম খালেদা জিয়াই দেশে প্রথম শিশুযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সরকার এই সুবিধাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।’
শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া গেলে তারা নিজেদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।’ এ ক্ষেত্রে তিনি সেবাযত্নভিত্তিক অর্থনীতি ও সৃজনশীল অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বক্তারা নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিনা জামানতে ঋণ প্রদান, ব্যবসার ক্ষেত্রে নারীদের বিদ্যমান বাধা দূর করা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ইসরাত শারমিন। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।