ঢাকা: আগামী ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে প্রথম পর্যায়ে ৩৫৭টি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৯ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই যোগ্য এজেন্সির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা কোনো এজেন্সি যদি যৌক্তিক কারণ ছাড়া আগামী হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল নিবন্ধনের আগেই তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, এজেন্সি প্রতি নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা এককভাবে বা যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারলেই কেবল সেই এজেন্সি বা লিড এজেন্সি সৌদি আরবে হজযাত্রী পাঠাতে পারবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এজেন্সিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ই-হজ সিস্টেমে ঘোষিত প্যাকেজ নির্ধারণ করে হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে, যা পরবর্তীতে হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে মূল চুক্তিপত্র হিসেবে গণ্য হবে। এই প্যাকেজে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানকাল, হোটেলের দূরত্ব এবং মোট মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। প্রতিটি এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে, যা একজন গাইডের জন্য নির্ধারিত সংখ্যার সমান। কোনো এজেন্সি এই কোটা পূরণে ব্যর্থ হলে তারা অন্য কোনো লিড এজেন্সির অধীনে হজযাত্রী স্থানান্তরের মাধ্যমে তাদের হজ পালন নিশ্চিত করতে পারবে।
শর্তানুযায়ী, প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি জানা এবং অভিজ্ঞ একজন করে হজ গাইড নিয়োগ দিতে হবে। ই-হজ সিস্টেমে গাইড যুক্ত করার সময় তার পাসপোর্ট ও হজের অভিজ্ঞতার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে লাইসেন্স নবায়নসহ প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য জমা দিয়ে পরবর্তীতে কোনো এজেন্সি আবেদন করলে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী তালিকায় প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, যোগ্য তালিকা প্রকাশের পর কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
বর্তমানে এজেন্সিগুলোকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মেয়াদ এর আগেই শেষ হবে তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নবায়ন করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্সিকে হালনাগাদ হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স এবং আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সি ছাড়া অন্য সব এজেন্সির প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে এবং পরবর্তীতে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তা পুনরায় চালু করা হবে।