Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাইবার বৈষম্য রুখতে আইসিটি মন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৭

বক্তব্য দিচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

ঢাকা: সাইবার স্পেসে বৈষম্যহীন ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বহুপাক্ষিক সাইবার শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন দূরীকরণে ৩ দফা দূরদর্শী প্রস্তাব পেশ করেছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বুধবার (২২ জুলাই) চীনের প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহর শি’আনের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘Pooling Intelligence on the Silk Road, Embarking on a Digital Future: Jointly Building a Community with a Shared Future in Cyberspace’ থিম নিয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর উত্থাপন করা তিনটি মূল প্রস্তাব হলো:

দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান হস্তান্তর: কেবল হার্ডওয়্যারে নয়, বরং যৌথ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাইবার বিজ্ঞানী তৈরি ও তরুণ মেধার বিকাশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা;

সাশ্রয়ী কানেক্টিভিটি: প্রযুক্তি হস্তান্তরকে সাশ্রয়ী করার মাধ্যমে বিশ্ব প্রযুক্তি নেতাদের সহযোগিতায় বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন দূর করা;

ডিজিটাল পাবলিক গুডস: ডিজিটাল উন্নয়নকে বিশ্বজনীন সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আইপি (IP) ও ডাটা আর্কিটেকচার সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা।

এ সময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে উল্লেখ করেন যে, ‘এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।’

তিনি জানান, দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মোবাইল কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পোর্টাল ও ‘ডি-নথি’র মাধ্যমে দাফতরিক কাজকর্ম সম্পন্ন হচ্ছে। এ ছাড়া ভূমি রেকর্ড থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজড করায় প্রতিবছর নাগরিকদের কোটি কোটি কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে।

ডিজিটাল রূপান্তরকে কেবল ভৌত অবকাঠামো নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেধার বিষয় হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এআই গবেষণা, ফিনটেক উদ্ভাবন এবং ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গঠনে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া এবং সুনির্দিষ্ট কৃষিকাজের জন্য ড্রোন ব্যবহারের মতো স্থানীয় উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জন্য ‘ডিজিটাল সিল্ক রোড’ একটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা, যার মাধ্যমে হাই-স্পিড সাবমেরিন ক্যাবল কানেক্টিভিটি চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আসিয়ান অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে সংযুক্ত করছে।’

উল্লেখ্য, ২১-২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৮০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা ও বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি ও পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।