ঢাকা: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংস্থাটির প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদরা বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী কিছুদিন টানা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় আজ অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেরও অনেক জায়গায় একই ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের সার্বিক স্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়াবিদরা আরও বলেন, ‘উপকূলে অতিভারী বর্ষণের শঙ্কাও তৈরি হতে পারে।’
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আলাদা বার্তা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ওই একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্নে পৌঁছায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির ঝুঁকি থাকায় সংশ্লিষ্ট সব অঞ্চলকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।