Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাতের ভোটের কারিগর ৩২ যুগ্মসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৩ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ২২:৫৫

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফাইল ছবি

ঢাকা: রাতের ভোটের কারিগর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (বর্তমানে যুগ্ম-সচিব) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তারা জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন তারা।

প্রজ্ঞাপনে, জনস্বার্থে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন এসব কর্মকর্তারা। দিনের ভোট রাতে করার কারণে তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা করে তাদেরকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।

বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি ও জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকা’ রেখেছিলেন জনপ্রশাসনের এই আমলারা। তাদের অনেকেই ’২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। তাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিধান অনুযায়ী শিগগির বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা এতদিন ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ছিলেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র অবসর-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে বলছে, ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই হিসাবে গত ৩০ মে তাদের প্রত্যেকের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকার চাইলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠাতে পারে।

ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর যেকোনো সময় সরকার, জনস্বার্থে, প্রয়োজনীয় মনে করিলে কোনোরূপ কারণ না দর্শাইয়া তাহাকে চাকরি হইতে অবসর প্রদান করিতে পারিবে; তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর