Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গ্রাহক সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে কিনছে বেশি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুলাই ২০২৬ ২৩:০০ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:৫৮

জাতীয় সঞ্চয়পত্র। ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ভাঙার চেয়ে সঞ্চয়পত্র কিনছেন বেশি। ফলে গত অর্থবছরের মে মাসে সুদ পরিশোধের চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছে সঞ্চয়পত্র, যার পরিমাণ ১ হাজার ২৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর আগের এপ্রিল মাসেও ভাঙার চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কিছু ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ফলে অনেকেই এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে চায় না। এমনকি ব্যাংকে আমানতের সুদ বাড়লেও মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলছেন, শেয়ারবাজারের অবস্থাও খুব বেশি ভালো না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে মানুষ আবার জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত দুই অর্থবছর যথাক্রমে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সময়ে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ নিতে পারেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১২ মাসে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি নেতিবাচক ধারায় ছিল। ওই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১২ মাসেও আগের আসল ও সুদ বাবদ ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। যদিও গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা ইতিবাচক রয়েছে। এ সময়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরের মাস জুনেও যদি সঞ্চয়পত্র বিক্রির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে সরকার হয়তো সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে অল্প কিছু ঋণ নিতে পারবে। এদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ধারাবাহিক ঋণাত্মক থাকার কারণে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিলে সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছিল ২ হাজার ২৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলে আগের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধ করার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল। আর পরের মে মাসেও সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ইতিবাচক। ওই সময়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধের চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছিল ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এদিকে একক মাস হিসাবে মে মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা ইতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি গত অর্থবছরের ১১ মাসেও সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা ইতিবাচক রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছে। এই ১১ মাসে আগের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা।

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম