ঢাকা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত ও বার প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা এবং এ সংক্রান্ত আইন কার্যকর করার দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ৩ অনুযায়ী জনসমাগমস্থলে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট বার প্রাঙ্গণ আইনগতভাবে জনসমাগমস্থল হলেও সেখানে এখনো কার্যকরভাবে এ আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আদালত প্রাঙ্গণের করিডোর, সিঁড়ি, অপেক্ষমাণ স্থান, উন্মুক্ত এলাকা ও বার প্রাঙ্গণে নির্বিচারে ধূমপানের কারণে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এতে আরও বলা হয়, আদালত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রকাশ্যে ধূমপান চলতে থাকলে তা শুধু বিদ্যমান আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও আইনের প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ণ করে।
নোটিশে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী জীবনের অধিকার এবং অনুচ্ছেদ ১৮ (ক) অনুযায়ী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (FCTC) সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জনসমাগমস্থল ও কর্মস্থলকে তামাকের ধোঁয়ামুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের ফলে জনসমাগমস্থল ও কর্মস্থলে ‘নির্ধারিত ধূমপান এলাকা’ রাখার বিধান বাতিল হয়েছে। ফলে আদালত প্রাঙ্গণে ধূমপানের জন্য আলাদা কোনো স্থান নির্ধারণের সুযোগও নেই। এ অবস্থায় দেশের সব বিচারিক প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
এছাড়া, একই দাবিতে ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আদালত ও বার প্রাঙ্গণে দৃশ্যমান সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত তদারকি, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমগ্র বিচার বিভাগকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত ঘোষণা ও তা কার্যকর করতে জরুরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।