ঢাকা: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেছেন, ‘চোখের স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসাসেবার বিষয় নয়, এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল রেনেসাঁয় দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আই হেলথ বিয়ন্ড হেলথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। মানুষ যে অঞ্চলেই বসবাস করুক না কেন, তার গুণগত মানের চোখের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
তিনি জানান, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ এবং গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা সহজলভ্য করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
ড. মুহিত বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় চক্ষু স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি বড় ধরনের র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই জরিপের ফল আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, সারা বাংলাদেশ থেকেই ছানিজনিত অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’ পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগে ছানি দূরীকরণে বিশেষ উদ্যোগ ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০: ছানি নির্মূল কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সেমিনারে দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রস পাইপার, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. কাদির, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।