ঢাকা: জাতীয় পরিচয়পত্র সেবাদানকারী অনুবিভাগের নাম পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় পরিচয় ও ভোটার নিবন্ধন অনুবিভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত নিখুঁত ও বায়োমেট্রিক ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়। সফলভাবে সেই তালিকা তৈরির পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, ভোটার তালিকার জন্য সংগৃহীত এই বিশাল তথ্য ভাণ্ডার বা ডেটাবেজ ব্যবহার করেই দেশের নাগরিকদের একটি একক জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়া সম্ভব। মূলত সেই সময় এই সেবাটি পরিচালনা ও তদারকি করার উদ্দেশ্যেই ইসির অধীনে পৃথকভাবে ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ’ গঠন করা হয়েছিল।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কমিশন লক্ষ্য করছে, বিদ্যমান নামটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত সাংবিধানিক দায়িত্ব ও মৌলিক কার্যক্রমের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে না। শুধুমাত্র ‘জাতীয় পরিচয়’ শব্দটি থাকার কারণে মনে হতে পারে এটি নিছক একটি পরিচয়পত্র প্রদানকারী সংস্থা, অথচ ইসির মূল ও সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা। তাই প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা, মৌলিক কাজ ও সেবার স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি ভোটার করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফুটিয়ে তুলতেই এই নাম পরিবর্তনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা এই বিশাল ডেটাবেজ দেশের বৃহত্তম নাগরিক তথ্যের উৎস। ইসির প্রকাশ করা সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। কমিশনের এই বিশাল ভোটার নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছেন- ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন পুরুষ ভোটার, ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন নারী ভোটার এবং ১ হাজার ২৪৩ জন হিজড়া সম্প্রদায়ের ভোটার। মূলত এই বিশাল সংখ্যক নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং সেসঙ্গে তাদের উন্নত পরিচয়পত্র সেবা দিতেই অনুবিভাগটির পুনর্বিন্যাস ও নামকরণের প্রক্রিয়াটি জোরদার করা হচ্ছে।