ঢাকা: আগস্ট মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচন শেষ করার পরপরই আগামী মাস (সেপ্টেম্বর) থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের করার সুযোগ থাকলেও আগস্টেই ভোট শেষ করার কথা জানান এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের আগেই রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে। আমাদের স্থানীয় নির্বাচন আসবে। আমাদের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। পরিস্থিতি বুঝে তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
এর আগে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সুবিধাজনক যেকোনো সময়েই নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হবে।
প্রথা ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ইসি ইতোমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা পর্ব শেষ করেছে। মূলত সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করেই কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারি দলের প্রার্থী ঘোষণা হওয়া মাত্রই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে চলতি মাসের মধ্যেই ভোট গ্রহণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে সার্বিক পরিস্থিতি ও দলীয় অবস্থান নির্ধারণে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে, যার সিদ্ধান্ত ইসির নির্বাচনি প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত সময়সূচি চালুর গতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর থেকে সাধারণত ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন, তবে ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় সেবারই একমাত্র জাতীয় সংসদের কক্ষে ভোট গ্রহণ করতে হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং অন্য একজন সমর্থক হন এবং নির্বাচনের সময় সংসদের অধিবেশন না থাকলে প্রয়োজনে স্পিকার সাত দিন আগে নোটিশ দিয়ে অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। কমিশন মূলত চলতি মাসের শেষভাগে ভোট গ্রহণের তারিখ রেখে মনোনয়ন জমা, বাছাই ও প্রত্যাহারের সময় উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।