Sunday 02 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুলিশ কোনো বিশেষ দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩৮ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪২

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না, বরং পুলিশকে হতে হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও নিরাপত্তার প্রতীক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক সেবামুখী সংস্থায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে চরম দলীয়করণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সততা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি কঠোরভাবে চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনি অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তটি তাদের জীবনে অনেক আগেই আসার কথা ছিল। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ যে সীমাহীন বঞ্চনা ও অমানবিক যন্ত্রণা তারা সহ্য করেছেন, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ন্যায্য অধিকার ও পদমর্যাদা ফিরে পাওয়ায় তিনি সকল কর্মকর্তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

নবীন এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশের এক ঐতিহাসিক রূপান্তরকালে পেশাগত জীবনে পদার্পণ করছেন। আইনের চোখে রাজপথের কর্মী থেকে প্রান্তিক কৃষক—সকলেই সমান। সেবা নিতে এসে কেউ যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই বাহিনীর মূল শক্তি।

সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ তদন্তে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই সকল পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের সদস্যরা তাদের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন পেশায় অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনপ্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে নবীন এএসপি প্রবেশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্য হতে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, এএসপি প্রবেশনারদের অভিভাবকবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাকটিভিটিজ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া, বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম মামুন ও বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন আবু নুমান মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। সর্ববিষয়ে সেরা তথা বেস্ট প্রবেশনার হয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের ৫৭ জন ও ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ০১ জনসহ সর্বমোট ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজেের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

 

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর