ঢাকা: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণবিপ্লব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী পুঞ্জীভূত ক্ষোভের দাবানল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের মতো জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও আমাদের অর্জনের এক অনন্য প্রতীক।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দোলনের পটভূমি বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালের পর থেকে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ফলে জনগণের মনে যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, অগ্নেয়গিরির অভ্যুত্থানের মতো জুলাইয়ে তার স্ফুরণ ঘটে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে রাজপথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। এই আন্দোলনে যারা চোখ, হাত, পা হারিয়েছেন কিংবা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
নিজের মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সুচিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
একই সঙ্গে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনো ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বিদেশি অপশক্তির সহায়তায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বকে নস্যাৎ করার চক্রান্তে লিপ্ত।’ অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা ও দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বিগত শাসনের অপচিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সমস্ত কাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। নজিরবিহীন অত্যাচারের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানের মুখে শাসকগোষ্ঠী পলায়ন করতে বাধ্য হয়।’ বিগত দিনের ভুল ও অপশাসন থেকে শিক্ষা নিয়ে সততা এবং ন্যায়নীতির ভিত্তিতে জনসেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম আহসানুল আজিজ এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানাসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।