ঢাকা: দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অনেকেই মাঝেই এখন প্রশ্ন উঠেছে- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে কী কী যোগ্যতা লাগে, কীভাবে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি, আর ভোটার কারা?
নির্বাচন নিয়ে সংবিধান যা বলছে
‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা’ অনুসারে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিলে মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রয়োজনে ভোটগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
বাংলাদেশি নাগরিক, বয়স ৩৫ বছর ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকলেই আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না।
সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন অথবা সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।
এজন্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে, বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, সেই সঙ্গে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে। আর জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মনোনয়নের নিয়ম-কানুন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে জাতীয় সংসদের একজন সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সদস্যকে সমর্থক হতে হবে। কোনো সংসদ সদস্য একাধিক প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারবেন না। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক সই থাকতে হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেন যারা
একসময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিধান ছিল। তবে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরে সেই পদ্ধতি বাতিল হয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এখন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
ভোট প্রক্রিয়া
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।
যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদ ভবনে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে যদি মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই রিটার্নিং অফিসার তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন।
এদিকে যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাতদিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবেন।