ঢাকা: ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে দণ্ডিত খুনি শেখ হাসিনার বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রত্যর্পণের প্রশ্নটির সমাধান না হলে দেশটির সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগই দেশের জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক রাজনৈতিক বিবৃতিতে তিনি এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিগত দুই বছর ধরে ভারত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে দণ্ডিত খুনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি সরাসরি অবমাননা। সম্প্রতি বাংলাদেশের আপত্তি উপেক্ষা করে দিল্লিতে শেখ হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এটি আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন গুরুতর আঘাতের পরও মন্ত্রণালয় কেবল একটি বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে এবং ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কার্যকর জবাবদিহিতা আদায় করতে পারেনি।’ এ ছাড়া, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ না পাওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।
ভারতের হাইকমিশনারের ‘Shared Dream’ বা যৌথ স্বপ্নের মন্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কোনো কথিত সম্প্রসারণবাদী স্বপ্নের অংশীদার নয় এবং দিল্লি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা প্রভাব বিস্তারের অধিকার দাবি করে—এমন কোনো সম্পর্ক এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়।’
ভারত সম্পর্কের মূল শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতা চিরতরে বন্ধের নিশ্চয়তা আদায় করতে হবে।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং পলাতক নেতাদের আশ্রয় ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম বন্ধের স্পষ্ট অবস্থান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে বন্ধুত্বের অজুহাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগ অর্থহীন হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।