ঢাকা: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ইসি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনকে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে।
এদিকে, ১৯৯১ সালের পর এবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও প্রার্থী দিয়েছে। এ জোট সাবেক বিএনপি নেতা ও মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
এরই মধ্যে বিএনপি দু’টি এবং ১১ দলীয় জোট একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। পূরণ করা মনোনয়নপত্র বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি কর্তার দফতরে জমা দিতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় মোট ভোটার ৩৪৯ জন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে সই করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন।
সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়তাকারী কর্মকর্তারা (স্পিকারসহ ২০ জন) ব্যালট পেপার সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন। সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করে সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বক্সের যেকোনোটিতে রাখতে পারবেন।
তিনি জানান, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই গণনা করা হবে। পরে ফলাফল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ইসি সচিব আরও জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধভাবে জমা পড়েছে এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা গণনার পর নির্বাচনি কর্তা হিসেবে সিইসি ফলাফল ঘোষণা করবেন।
গণনা ও ফলাফল ঘোষণা বিষয়ে ইসি সচিব আরও জানান, বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। নির্বাচনে মোট ব্যালট সংখ্যা ৩৪৯টি।
গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল সেখানে সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনি প্রক্রিয়া সংসদ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত বসার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান ইসি সচিব।