কিশোরগঞ্জ: সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কিশোরগঞ্জ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানসহ মৎস্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) তিনি এ সফর করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। সফরকে ঘিরে জেলার মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উন্নয়ন, বিশেষ করে অবকাঠামো, যোগাযোগ, কৃষি ও মৎস্য খাত।
রোববার সড়কপথে কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের শুরুতে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন তিনি। একই এলাকায় পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে শুভেচ্ছাও বিনিময় করবেন।
এরপর তিনি কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। পরে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
সফরের পরবর্তী কর্মসূচিতে রয়েছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। সেখানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই স্থানে ছাত্রদলের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।
দিনের শেষভাগে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মসূচিতে যোগ দেবেন সরকারপ্রধান। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। একই অনুষ্ঠানে অন্যান্য অনুদান এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মাঠ ও মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। চলছে সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। কর্মসূচির স্থানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও সমন্বয় করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—যোগাযোগ, চিকিৎসা, কৃষি, মৎস্য ও অবকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভৈরব স্টেডিয়ামে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায়ও বক্তব্য দেন তিনি।’
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। তাদের প্রত্যাশা, এসব কর্মসূচির সুফল দ্রুত নিম্নআয়ের পরিবার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছাবে।