ঢাকা: অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম (লবণ) ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ অতিপ্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাদ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা এবং অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যের মোড়কে কার্যকর ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জনস্বাস্থ্য, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী: ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বিধান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান। সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্ক ও সিটিজেন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্যের মোড়কে সহজবোধ্য ও কার্যকর স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্যাকেটজাত খাদ্যে পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্য ও মিষ্টিজাতীয় পানীয়ের মাধ্যমে মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব খাবারের কারণে নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার এসব রোগের অন্যতম ঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মিষ্টিজাতীয় পানীয় ও ফাস্টফুডের জনপ্রিয়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তাদের মতে, খাদ্যের মোড়কে এমন তথ্য দিতে হবে, যা সাধারণ ভোক্তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বুঝতে পারেন। অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
সেমিনারে আরও বলা হয়, এফওপিএল শুধু লেবেলিং ব্যবস্থা নয়; এটি ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, নিরাপদ খাদ্য নির্বাচনের অধিকার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার। কার্যকর এফওপিএল বাস্তবায়নে বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টিমান নির্ধারণ, দৃশ্যমান স্বাস্থ্য সতর্কবাণী, বাধ্যতামূলক প্রয়োগ, বাজার নজরদারি, আইন লঙ্ঘনে শাস্তি এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অধ্যাপক ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোহেল রেজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আতিকুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।