Thursday 13 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রোমে বিমানের গাফিলতিতে যাত্রীদুর্ভোগ, পদ হারালেন জনসংযোগ কর্মকর্তা

মেহেদী হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৩৩ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৫৪

পদ হারানো কর্মকর্তা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ইতালির রোমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বহীনতা ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক যাত্রীদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে তথ্যের অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন ভিভিআইপি ও সাধারণ যাত্রীরা। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলামকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কানাডার টরেন্টো থেকে ২৫৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইট বিজি-৩০৬। পরে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ইতালির রোমে অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। প্রায় ৮ ঘণ্টা চেষ্টা করেও ত্রুটি সারানো সম্ভব না হওয়ায় ফ্লাইটটি গ্রাউন্ডেড করা হয়। এমনকি এই দীর্ঘ সময় বিমানের ভেতরেই রাখা হয় যাত্রীদের। পরে যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে নেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় বেশিরভাগ যাত্রীকে বিমানবন্দরেই অবস্থান করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

যাত্রীদের অভিযোগ, সংকটকালীন সময়ে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমান কর্মকর্তাদের কোনো ইতিবাচক সহযোগিতা মেলেনি। প্রায় ১৭০ বাংলাদেশি যাত্রীকে প্রায় ৪০ ঘণ্টা বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অবস্থান করতে হয়। একটি লাউঞ্জের ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে সবার জায়গা হয়নি। মেঝে ও চেয়ারে রাত কাটাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থানের কারণে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের অনেকে ভোগান্তিতে পড়েন। খাবার পেতে দেরি এবং লাগেজে থাকা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনসুলিন সময়মতো ব্যবহার করতে পারেননি যাত্রীরা।

এরপর ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল রোমে পাঠানো হয়। তারা বিমানটির ত্রুটি শেষে স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করে।

এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি। উদ্ভূত সংকট নিয়ন্ত্রণে তথ্যের সঠিক আদান-প্রদান না করা, গণমাধ্যম ও ভুক্তভোগীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং সার্বিক জনসংযোগ ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিমানের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জনসংযোগ কর্মকর্তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সত্য। তার স্থানে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিমানের করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিউদ্দিন।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনায় জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তার চাকরি যাওয়ার আগে বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চাকরি যাওয়ার কথা। প্রথমে বলেছে বিমানে এসি নষ্ট, পরে বলেছে সামান্য সমস্যা হয়েছে। এর পরে আবার জানিয়েছে সামান্য আগুন ধরেছিল। এভাবে তথ্যবিভ্রাটে ফেলে দেয় যাত্রীদের। এমনকি, বিমানের ক্যাপ্টেনেরও এখানে দায়িত্বে অবহেলা ছিল। রিফুয়েলিংয়ের জন্য রোমে বিমান থামানোর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। যদি কোনো যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হতো, তাহলে কোনো হাসপাতালেও তাকে নেওয়া সম্ভব হতো না। এমনকি, অপারেশনাল টিমের গাফিলতি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর