Wednesday 26 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি ও গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোকে অগ্রাধিকার: চিফ হুইপ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০৭

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

ঢাকা: আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।’

সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অধিবেশনটি পাঁচ, সাত বা ১০ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে, তবে প্রয়োজন অনুসারে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে। তৃতীয় অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিলসহ প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে বজায় রাখবেন।’ এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের যেকোনো ধরনের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা এবং নির্বাচনি ইশতেহারের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান।’ দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও মূলত সংবিধান সংস্কারের একটি অংশ।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বিএনপি থেকে সাতজন এবং জামায়াত থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধী দল তাদের উপযুক্ত সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধীদলের অন্যতম প্রধান ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল সংসদের বাইরে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সঠিক সমাধানের পথ বের করবে।’ ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চলমান বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ জানান, কোনো সরকারের পক্ষেই মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগে।’ বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এই চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’