ঢাকা: বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালে সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ বন্যা ও প্রাণঘাতী ভূমিধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানোর পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও শোক প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দেশটির শোকার্ত জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতাও পালন করা হয়।
সংসদের কার্যক্রমে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি প্রতিবেশি দেশের এই আকস্মিক বিপর্যয়ের চিত্রটি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান দ্রুত পরিচালনা ও আহত নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এরইমধ্যে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অবিলম্বে সহায়তা দলগুলোকে সেখানে পৌঁছানোর দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
পরে স্পিকারের সম্মতিক্রমে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং নিহতদের স্মরণে গভীর নীরবতা পালনের পর ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ একটি বিশেষ মোনাজাত সম্পন্ন করেন।
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে। তিব্বত অঞ্চলে তুষারধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ হঠাৎ আটকে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত প্লাবনের সৃষ্টি করে তীরবর্তী বসতিগুলোকে তছনছ করে ফেলে। এর প্রভাবে অন্তত কয়েকশ মানুষের সলিল সমাধি ঘটেছে এবং বহু সংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশ এই চরম সংকটের সময় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসার সরঞ্জাম নিয়ে নেপালের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।