ঢাকা: জাতীয় সংসদে মূল ও পরিপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে কেবল আংশিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলে চলতি সংসদ অধিবেশন বর্জন করে কক্ষ ত্যাগ করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে সংসদের সাধারণ অধিবেশনের সময় নতুন দুটি বিল পেশের প্রাথমিক পর্যায়েই অসন্তোষ জানিয়ে বিরোধী দলের সব সদস্য একযোগে বেরিয়ে যান।
স্পিকারের পরিচালনায় বেসরকারি সদস্যদের প্রস্তাব শেষ হওয়ার পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় প্রধান।
অধিবেশনের আইনপ্রণয়ন পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার প্রাক্কালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামোগত বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, পূর্বে ঘোষিত বিশেষ প্রক্রিয়া ও সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ পরিষদ গঠিত না হওয়ায় বর্তমান প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো যথাযথ রূপ পাচ্ছে না। মানবাধিকার ও গুম সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে যে দুটি বিল আনা হচ্ছে, তাতে পূর্ণাঙ্গ মতামত ও নীতি প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিলে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলটি তাদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াকআউট শেষ করার পরপরই তারা সংসদ ভবন চত্বরে সংবাদমাধ্যমের সামনে গিয়ে পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন।
গত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে জারি হওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিরোধী পক্ষের অসন্তোষের কারণেই মূলত সংসদ কক্ষে এই অনভিপ্রেত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সে সময় শতাধিক অধ্যাদেশ কার্যকর করা হলেও পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার অনেকগুলোই সংসদীয় বিলে রূপান্তর না করায় আইনি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। সম্প্রতি অনুমোদিত মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত নতুন বিলগুলোর কিছু ধারায় অপূর্ণতা ও অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে দেশের মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।