ঢাকা: দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন, ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে সরকারের সাম্প্রতিকতম দৃষ্টিভঙ্গি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা রোধ, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন এলাকার ভেতরের আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতির কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনসভার তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব প্রদানের মাধ্যমে সরকারের এই অবস্থান প্রকাশ করেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, দেশের সব কয়টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির অংশ আদায়ে সরকার নীতিগতভাবে অনড় অবস্থায় রয়েছে। গঙ্গা চুক্তির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ভারতে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর আধুনিক ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি দল ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করে বাস্তবভিত্তিক পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।
উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতি পরিবর্তনের কথা সংসদে উল্লেখ করা হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রশাসনিক কাজের জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার জন্য পূর্বে বিচ্ছিন্নভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করায় অর্থ ব্যয় বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের মতো সংকট তৈরি হয়েছিল। এই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করার উদ্দেশ্যে এখন থেকে পৃথক ছোট প্রকল্পের পরিবর্তে কয়েকটি জেলা বা বিভাগকে একসঙ্গে যুক্ত করে সমন্বিত আধুনিক প্রকল্প গ্রহণের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার হারের তারতম্য ও ঋণের সুদের পরিবর্তনের ফলে কিছু কিছু মেগা প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় কিছুটা প্রভাবিত হলেও প্রতিটি ব্যয়ের হিসাব কড়া নজরদারির মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।