Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঘুস ছাড়া ফাইল কেন নড়ে না?— উত্তরে যা বললেন ভূমিমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪৮

সংসদে কথা বলছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমিসংক্রান্ত সেবা প্রদান নিয়ে কড়া ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। শতভাগ ই-নামজারি নিশ্চিত করা এবং অনলাইনের মাধ্যমে খাজনা পরিষদের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা চালুর পরও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয় এবং ভূমি অফিসে ঘুস লেনদেন ছাড়া ফাইল হস্তান্তর হয় না বলে সংসদীয় বৈঠকে অভিযোগ আনেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ।

রোববারের (৩০ আগস্ট) এই অধিবেশনে তিনি আরও জানতে চান, বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে উঠে আসা দুর্নীতিগ্রস্ত তহসিলদারদের বিরুদ্ধে প্রকৃতপক্ষে কবে নাগাদ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে সরকারি খাসজমি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংসদে প্রকাশ করা হবে কি না।

বিজ্ঞাপন

ওই প্রশ্নের সরাসরি লিখিত জবাবে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উল্লেখ করেন যে, জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সার্বিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মচারীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইন ও বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

ভূমি সেবায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও ঘুস ঠেকানোর কৌশল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সারাদেশে যেকোনো নাগরিকের জমি সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে আধুনিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালুকরণ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে আবেদন জমা হওয়ার পর তা নিয়মিত তদন্ত করে নিষ্পত্তি করা হয় এবং সেটির হালনাগাদ তথ্য সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে খুদে বার্তার মাধ্যমে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি জিআরএস ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত নথিপত্র এবং ২৪ ঘণ্টা সচল থাকা হেল্পলাইন নম্বর ১৬১২২-এ প্রাপ্ত কলগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

অপর প্রশ্নের উত্তরে খাসজমি দখলমুক্ত রাখা এবং ভুয়া দলিলের দৌরাত্ম্য বন্ধের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সহকারী কর্মকর্তারা খাসজমি রক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং পরিচালনা করছেন। যেকোনো স্থানে বেআইনি দখলের খবর পাওয়ামাত্রই তা তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খাসজমি সরকারের নিজের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ।’

ভুয়া দলিল তৈরি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অসৎ উপায়ে সংখ্যালঘুদের জমি ও সরকারি খাস জমি দখলের প্রমাণ মিললে আইনানুযায়ী কালবিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর