ঢাকা: সারাদেশে পরিচালিত অনিবন্ধিত ৩৩ হাজার ৬১৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. কাওসার হোসাইন। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট ৩৪ হাজার ৬১২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯৯৮টি বিদ্যালয় নিবন্ধিত। ফলে বাকি ৩৩ হাজার ৬১৪টি বিদ্যালয় অনিবন্ধিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্য রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুলস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬২’ অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা বৈধ নয়। আইনের ৩ ধারায় অনিবন্ধিত বিদ্যালয় পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।
আইনজীবী কাওসার হোসাইন জানান, অনিবন্ধিত বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।