ঢাকা: ২০২৪ সালে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, জনসাধারণের আর্থিক লেনদেন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
রোববার (৬ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান করেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ১৮ থেকে ২৩ এবং আগস্টের ৫ তারিখ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক নারীকর্মী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একইসঙ্গে ই-কমার্স, অনলাইন টিকিটিং, দেশি-বিদেশি অনলাইন পেমেন্ট, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং মোবাইল আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে যায়। বিদেশে থাকা এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া এবং ওই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, একাধিক আইটিসি অপারেটর, প্রায় ৩০টি আইআইজি, মোবাইল অপারেটর এবং এক হাজারের বেশি আইএসপির মাধ্যমে কয়েকস্তরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। বহু প্রতিষ্ঠান ও স্তরের মধ্য দিয়ে নির্দেশ বাস্তবায়নের সময় ফাঁকফোকর গলে কোনো ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সংযোগ চালু ছিল কি না, তা বের করা অত্যন্ত জটিল।’