Thursday 23 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

১ মণ দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়লেন জামায়াত নেতা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ জুলাই ২০২৬ ২৩:১৭

নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. দেলোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা: স্থানীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ডের জেরে শ্যামনগরের নূরনগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নূরনগর ইউনিয়নের হরিনাগাড়ী গ্রামে প্রকাশ্যে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি এ ঘোষণা দেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দলত্যাগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন হরিনাগাড়ী গ্রামের মো. মুনসুর সরদার ছেলে। তিনি নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে প্রকাশিত ভিডিও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি দলীয় রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একজন কর্মী হিসেবে আমি এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারিনি। তাই বিবেকের তাড়না থেকে জামায়াতে ইসলামীর সবধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরাও গভীরভাবে মর্মাহত। এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন আমাদের ওয়ার্ড কমিটির একজন কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কি না, সেটি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি দেখে বলতে হবে।’

উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভিডিও বিতর্কের পর থেকে সাতক্ষীরা জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নূরনগরের এ ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সারাবাংলা/পিটিএম