ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে একটা স্বৈরাচারের কালোছায়া চলে গেল, এজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান ও সংসদীয় বিধি অনুসারেই হবে।’ একই সঙ্গে তিনি এমন একজন রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন, যিনি কারও তোষামোদ না করে সংবিধান ও রাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির পদে নতুন নিয়োগ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা এ পদের জন্য প্রস্তুত থাকবেন, তাদের নাম প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির মর্যাদা অক্ষুণ্ন দেখতে চাই, কোনো তোষামোদকারী রাষ্ট্রপতি চাই না। আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তার উদ্দেশ্যই হলো তোষামোদের সংস্কৃতি বন্ধ করা। রাষ্ট্রপতিসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করবেন, কারও নির্দেশে নয়; সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির আলোকে দায়িত্ব পালন করবেন।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ এবং মাঝেমধ্যে অজ্ঞান হয়ে যান বলে জানিয়েছেন। তিনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা ও বিশ্রাম নিতে চান।’ তবে ডা. শফিকুর রহমানের মতে, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে এখানেই চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই সবাই দেশের মধ্যেই চিকিৎসা নিন। প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনা যেতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন অতীতের ঘটনাবলির দায় এড়াতে পারেন না।’
তার অভিযোগ, ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যার সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি কোনো প্রতিবাদ জানাননি এবং সহিংসতা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগও নেননি। তিনি বলেন, ‘গার্ডিয়ান হিসেবে তিনি (রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন) তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি সে ধরনের বিশ্বাসযোগ্য (ক্রেডিবল) আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’