Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘বাংলাদেশের সব আন্দোলনে জবি শিক্ষার্থীরা সামনের সারিতে ছিল’

জবি করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুলাই ২০২৬ ২১:৫৭

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

জবি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা সবসময়ই সামনের সারিতে ছিলেন। তবে সেই অবদানের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পায়নি। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার আন্তরিক দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (২৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা অপেক্ষা করতাম, কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল এসে যোগ দেবে।’

জুলাই আন্দোলনে জবির শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের।’ এ সময় তিনি জুলাইয়ের সব শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনেও তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই দেশের ইতিহাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানও সমানভাবে স্মরণীয়।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনার সুযোগ পান। ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেরও অংশ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের মা। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি নিয়ে এখনো ঘুমাই। আমি এখনো জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছি।’ তার বক্তব্যে পুরো মিলনায়তনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে সাহস জুগিয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক বলেন, জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘সাজিদের মতো মৃত্যু কারও ভাগ্যে যেন না জোটে। জগন্নাথ থেকে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা কখনো দ্বিতীয় হব না, আমরা প্রথম হব।’

জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জগন্নাথবাসী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে ফিরতে দেবে না।’ তিনি শিক্ষাঙ্গনে সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, সভাপতি জাহিদ আহসান, জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ এবং বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভার বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সারাবাংলা/এসএস