Friday 31 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এনসিপির ওপর হামলা / হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ জুলাই ২০২৬ ২১:২৮

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ঢাকা: সিলেটের হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ওপর হামলায় এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো কিশোর আলিফ চৌধুরীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চায় না দেশের মানুষ।’

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান ডা. শফিকুর রহমান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হবিগঞ্জের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বাংলাদেশেও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।’ সরকার এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে পুরো জাতি তাকিয়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, হামলার শিকার ব্যক্তিদের মামলা দায়ের করতেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বহু চেষ্টা-তদবিরের পর মামলা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ভুক্তভোগীদের যদি ন্যায়বিচার পেতে সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে।’

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। ব্যর্থতার ব্যাখ্যা নয়, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় মানুষ। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে, আইন সবার জন্য সমান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাবেন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।’

আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছেলেটি কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি। বরং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং কোনো সভ্য সমাজে এ ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে হামলায় আহত হন আলিফ চৌধুরী। পরে তাকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর