ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। তার দাবি, ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৩৬ জুলাই’ উপলক্ষে বিএনপির কোনো দলীয় কর্মসূচি দেখা যায়নি।’ তার অভিযোগ, ‘বিএনপি সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল মূলত নির্বাচন আদায়ের জন্য। জনগণ সংস্কারের দাবিতে আবার রাজপথে নামলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই তারা সংস্কারের কথা বলেছিল।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য জীবন দেয়নি; তারা রাষ্ট্র ও ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল। বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল আন্দোলনকারীদের আকাঙ্ক্ষা।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের সময় নিজ দেশের জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হয়েছে।’ আন্দোলনে হতাহতদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে, তাদেরই তা সমাধান করতে হবে।’ সংসদে এর নিষ্পত্তি না হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে এর ফয়সালা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাস পরও দেশে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বীকার করেছেন।’ সবকিছু আগের মতো চলছে— এমন বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের উচিত ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।’
জনসভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি; রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য হয়েছে।’ তিনি দলীয়করণ বাদ দিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের আহ্বান জানান।
ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল সিস্টেমের পরিবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কার।’ তিনি প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানান।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।