Wednesday 05 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শরীয়তপুরে জুলাই যোদ্ধাদের মারধরের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১২

শরীয়তপুর পৌরসভার অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুর দিকে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা উপস্থিত হলে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ কয়েকজন বিএনপির নেতা-কর্মী তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

তাদের অভিযোগ, এ সময় গেজেটেড জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকেও লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর জুলাই যোদ্ধা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ কয়েকজন বিএনপির নেতা-কর্মী জাকির হোসেন মিন্টু ও ইমরান আল নাজিরসহ কয়েকজনকে মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিচ্ছেন। পরে কক্ষের বাইরে এলে জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন আদরকে মাহবুব মোর্শেদ টিপুর চড়-থাপ্পড় দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে আহত জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু বলেন, ‘আমরা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর হঠাৎ করে বিএনপির লোকজন হাঙ্গামা শুরু করে। আমি একজন গেজেটেড জুলাই যোদ্ধা, আমি জুলাই আন্দোলনে আহত হলে সরকার তদন্ত করেই আমাকে জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে বিএনপি নেতা টিপু মাদবর আমাকেসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে বের করে দেয়। আমাকে মেরে তারা আহত করেছে, যদি অন্যান্যরা আমাকে রক্ষা না করত আমাকে হয়তো মেরে ফেলত তারা। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছি, সেই রক্তের ওপর ভর করে তারা এখন সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। আমাদের যে মারধর করা হয়েছে, সরকার কী পদক্ষেপ নেয় আমরা তা দেখতে চাই।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, ‘আমাদের বিএনপির লোকজন মারধর করেছে তা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই। প্রশাসন এখানে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমরা চাই এই ঘটনার বিচার হোক।’

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বড় অবদান জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, যেটা জামায়াতের আমিরও স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের মাস্টার প্ল্যান ছিল তারেক রহমানের। অভ্যুত্থানে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যতো লোক আহত-নিহত হয়েছে, তা অন্য কোনো দলের হয়নি। কিন্তু শরীয়তপুরের ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কটুক্তিমূলক লেখালেখি করে থাকে। তারা এই অনুষ্ঠানে এসেও এধরণের কটুক্তিমূলক কথা বলায় আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তাদের আমরা বের করে দিয়েছি।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই জুলাই যোদ্ধাদের মারধর করা হয়েছে এবং প্রশাসন তখন নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপস্থিত জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্.) তানভীর হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো বক্তব্য না দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ করেছি। তবে যে অভিযোগটি এসেছে, তা জেনে জানাতে পারব। কেননা ঘটনাটি অনুষ্ঠান শুরুর আগে হলেও হতে পারে। ফরমালি যখন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে তখন এ ঘটনা ঘটেনি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর