ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে ধারাবাহিক সংগ্রামের জায়গায় দেশ এসেছে, কোনো চক্রান্ত বা আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র যেন সেই অগ্রযাত্রা রুখতে না পারে। সামনে যে মঞ্জিল, সেখানে পৌঁছাতে হবে এবং সংগ্রামে অগ্রসর হতে হবে।’
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের মাহেন্দ্রক্ষণ আজ পালন করছে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার সরকারি বাসভবনে এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিক সংগ্রামের যে জায়গায় তারা এসেছেন, কোনো চক্রান্ত বা আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র যেন সেই অগ্রযাত্রা রুখতে না পারে।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের সামনের মঞ্জিলে পৌঁছাতেই হবে, আমাদের সামনের সংগ্রামে অগ্রসর হতেই হবে, আমাদের পারতেই হবে।’
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে জুলাই শেষ হয়নি। স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের প্রত্যাশা—রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দেওয়া গণরায় এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য তারা লড়াই করছেন এবং এই লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।’
এ ছাড়া বর্তমান সরকার গণভোটের রায় নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দাবি করে নাহিদ বলেন, ‘সর্বত্র দলীয়করণ করা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় সরকারেও দলীয়করণ করা হয়েছে। জুলাইয়ের কর্মসূচিতে গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের সমন্বয়কদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না, এমনকি কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে না পারায় পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে সংবাদ সম্মেলন করছেন। সরকার কূটনৈতিক ব্যবস্থা না নিয়ে বাগাড়ম্বর করছে। ১১ দলীয় ঐক্য ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারকে প্রতিরোধ করবে।’
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দুই দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।